মৌলভীবাজার শহরে গ্রীষ্ম এসেছে ফুলে ফুলে

মৌলভীবাজার শহরে গ্রীষ্ম এসেছে ফুলে ফুলে,মৌলভীবাজার শহরে এখন লাল, হলুদ, গোলাপিসহ নানা রঙের ফুলের সমারোহ। ভবন, উঁচু দেয়াল—সবকিছু পাশে রেখে ফুলগুলো নিঃশব্দে ফুটেছে, ফুটছে। এর মধ্যে রং আর প্রাচুর্যের কারণে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে কৃষ্ণচূড়া।

 

মৌলভীবাজার শহরে গ্রীষ্ম এসেছে ফুলে ফুলে

 

মৌলভীবাজার শহরে গ্রীষ্ম এসেছে ফুলে ফুলে

শহরের কোর্ট রোডেই লাল কৃষ্ণচূড়ার উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। স্কাউট ভবন, মৌলভীবাজার ক্লাব, কাশীনাথ আলাউদ্দিন হাইস্কুল ও কলেজ, হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, জেলা প্রশাসকের বাংলো, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) তত্ত্বাবধায়কের বাংলো, ক্রিশ্চিয়ান মিশন এলাকাতে অনেকগুলো

কৃষ্ণচূড়া লালের বন্যা এনেছে। তবে সবচেয়ে বেশি কৃষ্ণচূড়ার সমাবেশ এখন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের বাংলো এলাকাতে।কোর্ট রোডের পাশ ঘেঁষে চার-পাঁচটি ছোট-বড় গাছে এসেছে অনেক কৃষ্ণচূড়া ফুল। হাওয়ায় লাল পাপড়ি ঝরে পড়ছে সড়কে। বাংলোর সড়কের পাশ ঘেঁষে ফুটেছে সোনালু। হলুদ-

সোনালি রঙের ফুল ঝুলে আছে ডালে ডালে। এই সোনালুর পাশে যে গাছটি সকালবেলার আলোতে শরীরভরা লাল ঝালর নিয়ে দাঁড়িয়ে, এটি জলাভূমির গাছ হিজল। হাওর-বাঁওড়সংলগ্ন স্থানেই তার দেখা মিলে বেশি। গভীর রাতে হিজলের ফুল ফোটে। সকালে তার ঝরার পালা। তাই হচ্ছে। ছোট ছোট ঝরা পাপড়ি দল

গালিচার মতো গাছের তলার ফুটপাতকে লাল করে তুলেছে। গাছের কাছে বাতাসে উড়ছে মৃদু ঘ্রাণ। পাশাপাশি দুটি হিজলের গাছ এখানে ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে।মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজুলর রহমান জানালেন, মনু নদের শান্তিবাগ এলাকায় নদের পাড়ে যে শোভাবর্ধনের কাজ চলছে। সেখানে মনু

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

নদের তীর ঘেঁষে অনেকগুলো হিজলগাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই বর্ষাতেই গাছগুলো লাগানোর কথা।জেলা প্রশাসকের বাংলোর উল্টো দিকের সার্কিট হাউস এলাকার সড়ক-সংলগ্ন সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে একটি গাছে অনেকগুলো কাঁঠালচাঁপা ফুটেছে। সেই ঘ্রাণ সকালের নির্মল বাতাসে মিশে

আছে। এ রকম কাঁঠালচাঁপা ফুটেছে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের দুটি গাছে। সেখানেও এমন ঘ্রাণ ছড়ানো থাকে। পৌরসভা কার্যালয়ের প্রাঙ্গণের পুকুরপাড়েও বেশ কিছু পরিচিত-অপরিচিত গাছে লাল, হলুদসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল এসেছে।শহরে আছে দুটি পিঙ্ক ক্যাসিয়াগাছ। অনেকগুলো ফুল এসেছে। এর একটি

শহরের পূর্ব গির্জাপাড়াতে, অপরটি কোর্ট এলাকার ভূমি কার্যালয় প্রাঙ্গণে। সাদা-গোলাপি ফুলে ছেয়ে আছে ডালপালা।শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার একটি বাসার কাছে গেলেই মনের মধ্যে বাজতে থাকে, ‘তোমার অশোকে কিংশুকে/অলক্ষ্য রং লাগল আমার অকারণের সুখে।’ ওখানে অশোক গাছের

ডালপালাগুলো থোকা থোকা লাল ফুলে রঙিন হয়ে আছে।মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠের উত্তর পাশটি এখন হলুদ হয়ে আছে টেকোমার রঙে। এর অন্য নাম চন্দ্রপ্রভা বা সোনাপাতি। গাছগুলোতে থোকায় থোকায় হলুদ ফুলের ঢেউ জেগেছে। মাঠের পুরো উত্তর পাশজুড়েই টেকোমার গাছ। ওখানে

গাছগুলো লাগানো ও যত্ন-আত্তির সঙ্গে যুক্ত আছেন মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান, শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক চিকিৎসক এম এ আহাদ, প্রাবন্ধিক ও লিটল ম্যাগাজিন ফসলের সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল খালিক, কানাডাপ্রবাসী নুরুর রহমানসহ আরও কয়েকজন ফুলপ্রেমী মানুষ।মধুমঞ্জরি,

নীল অঞ্জনসহ বিভিন্ন জাতের ফুল ফুটেছে শহরের কোর্ট এলাকার প্রবীণাঙ্গনে। কিছু স্থানে ফুটেছে রাধাচূড়াও। পৌরসভা কার্যালয়ের পেছনে ও কোর্ট এলাকার একটি বাসায় ফুটেছে বেগুনি ফুল জারুল। ক্রিশ্চিয়ান মিশনে ফুটেছে কাঠগোলাপ। শহরের এখানে-ওখানে এভাবেই গ্রীষ্ম এসেছে ফুলে ফুলে। কী

সকাল, কী বিকেল—দুপুরেও যে কাউকে আনন্দ দিতে ফুলগুলো ক্লান্তিহীন ফুটে চলছে।

 

মৌলভীবাজার শহরে গ্রীষ্ম এসেছে ফুলে ফুলে

 

আরও পড়ুন:

১ thought on “মৌলভীবাজার শহরে গ্রীষ্ম এসেছে ফুলে ফুলে”

Leave a Comment