মৌলভীবাজারে বাসার ছাদে ২০ জাতের অর্কিড,ছোটবেলা থেকে নানা রঙের অর্কিড পছন্দ মৌলভীবাজারের সোনিয়া মান্নানের। তিনি উদ্যোক্তা, অনলাইনে পোশাকের ব্যবসা করেন। ছোটবেলার সেই পছন্দ থেকে একদিন বাসার ছাদে নিয়ে আসেন কিছু অর্কিডগাছ। সেগুলোতে যখন নানা রঙের ফুল ফোটে, মনটা তাঁর আনন্দে ভরে যায়। তাঁর সংগ্রহে অন্তত ২০ ধরনের অর্কিড আছে বলে জানালেন।

মৌলভীবাজারে বাসার ছাদে ২০ জাতের অর্কিড
সোনিয়ার বাসা মৌলভীবাজার শহরের পিটিআই-সংলগ্ন এলাকায়। ছাদে ১২ মাসই কোনো না কোনো অর্কিডের ফুল ফোটে। তবে এই ফুল পেতে কম কষ্ট হয় না তাঁর। তবে সব কষ্ট ভুলে যান অর্কিডের সুন্দর সব ফুল দেখে।উদ্ভিদবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন সোনিয়া মান্নান। তিনি একের পর এক অর্কিড সংগ্রহ
করেছেন, যত্ন করেছেন। কোনো কোনো গাছে ফুল হয়নি, তাই বলে দমে যাননি। এখন তাঁর সংগ্রহে অন্তত ২০ জাতের অর্কিড আছে। ছাদজুড়ে থাকা নানা জাতের ফুল ও সবজির গাছের ফাঁকে ফাঁকে রাখা এসব অর্কিড। কোনোটা ফুল-পাপড়ি মেলেছে। কোনোটা আবার ফোটার অপেক্ষায় আছে।সোনিয়া বুধবার বলেন,
‘ছোটবেলায় দেখতাম গাছে গাছে একরকম ফুল ফুটত। বেশ সুন্দর, বেশ ঘন হয়ে একটা ডালে ছোট ছোট ফুল একসঙ্গে ফুটে আছে। চমৎকার নজরকাড়া বেগুনি আর সাদার মিশেলে ছিল সেই ফুলগুলো। হালকা একটা বুনো গন্ধও ছিল। আর গাছটাও অদ্ভুত, আরেকটা গাছের ওপর জন্মে থাকে। মাটি লাগে না, পানি
দেওয়া লাগে না। জেনেছি এগুলোকে অর্কিড বলে। আমরা খেলার জন্য ফুলটা পেড়ে আনতাম। মাথার চুলে গেঁথে রাখতাম। অর্কিডের সঙ্গে সেই প্রথম স্মৃতি।’সোনিয়া মান্নান বলেন, অর্কিড একধরনের পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ। এটি গাছের কাণ্ডে হয়ে থাকে। যে গাছে হয়, সেই গাছ থেকেই পুষ্টি সংগ্রহ করে বাঁচে। আবার কিছু

অর্কিড মাটিতে, পাথরের খাঁজে হয়ে থাকে। ফুলটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর আকর্ষণীয় রং, বিভিন্ন ধরনের গড়ন, সুগন্ধ, ঔষধি গুণাগুণ, দীর্ঘ স্থায়িত্বকাল। ২০০০ সালের দিকে জানতে পারেন, বিশ্বে অনেক ধরনের অর্কিড আছে। তখন বাংলাদেশে অল্প কিছু অর্কিড মিললেও মৌলভীবাজারের কোনো নার্সারিতে
অর্কিড পাওয়া যেত না। ঢাকা থেকে এক-দুইটা করে গাছ সংগ্রহ করেন। অভিজ্ঞতা না থাকায় কিছুদিন পরই দেখা যেত গাছগুলো মরে গেছে। ২০০৪ সালে তিনি থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে যান। সেখানে অনেক রকমের অর্কিড দেখতে পান। এগুলোর যত্ন বিষয়ে জানতে পারেন। এর দুই বছর পর ঢাকার বৃক্ষমেলা
থেকে তিনি দুই জাতের অর্কিড সংগ্রহ করেন। ফুল যে দিন ফুটল, সেই দিনের অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অনেক প্রতীক্ষা শেষে যে দিন প্রথম ফুল ফুটল, আমি খুব খুশি।এরপর এক এক করে গাছ সংগ্রহ করেছেন সোনিয়া মান্নান। কখনো কিনেছেন, কখনো অন্যের সঙ্গে গাছ বিনিময় করেছেন। এভাবে নানা
জাতের অর্কিডের সংগ্রহ নিয়ে আনন্দিত তিনি। সামনে এই সংখ্যা আরও বাড়াতে চান।

আরও পড়ুন:

১ thought on “মৌলভীবাজারে বাসার ছাদে ২০ জাতের অর্কিড”