স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন বোরো উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা,মৌলভীবাজারের বহুল প্রত্যাশিত হাওড় কাউয়াদিঘির পানি নিষ্কাশনের অন্যতম করাদাইর খাল খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে হাওড়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বোরো উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা এসেছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, কাউয়াদিঘির পানি নিষ্কাশনে হাওড়পাড়ে
সাড়ে তিন কিলোমিটার নতুন সড়ক ও বারো কিলোমিটার পানিপথের যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়েছে। বৃক্ষ রোপণ করে এ খালের দুই তীরকে আরও আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন বোরো উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা
সংশ্লিষ্টরা জানান, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার ২৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমি নিয়ে কাউয়াদিঘি হাওড়। এই পুরো হাওড়ের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম এই করাদাইর খাল (গাং)। দীর্ঘ কয়েক যুগেও এ খাল খনন না হওয়ায় পলি-বালি জমে ভরাট হয়ে গেছে। এতে সামান্য বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে
করাদাইর খাল উপচে এ অঞ্চলের কৃষকের একমাত্র ফসল বোরো পানিতে তলিয়ে যায়। প্রতিবছরই হেক্টরের পর হেক্টর আধাপাকা ধান নষ্ট হয়। হাওড়পাড়ের বাড়িঘরে দেখা দেয় স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বন্যা। এমন পরিস্থিতিতে ৬৪ জেলার খাল খনন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালে রাজনগর উপজেলা করাদাইর খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হয়।
তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বন্যা) ও করোনার প্রভাবে নির্ধারিত এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলম অ্যান্ড ব্রাদার্স, চট্টগ্রাম। দুবার কাজ পিছিয়ে যাওয়ার পর তিন বছরের মাথায় এসে করাদাইর খাল খনন কাজ পুরোটাই সম্পন্ন হয়েছে। এতে হাওড়ের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের
পাশাপাশি করাদাইর খালের গভীরতা ফিরে পেয়েছে। উপকৃত হয়েছেন রাজনগর উপজেলার রাজনগর, ফতেহপুর ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার কৃষক।পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শুষ্ক মৌসুমে করাদাইর খালের পানি ব্যবহারে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ও ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হবে।
কাশেমপুর পাম্প হাউস এলাকার কৃষক আনসার আলী জানান, গেল ফাল্গুনে টানা বৃষ্টিপাতেও হাওড়ে কোনো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়নি। অথচ প্রতিবছর আগাম একটু বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় হাওড়ের কাঁচা-পাকা বোরো ধান তলিয়ে যেত। এবার এ সমস্যা থেকে হাওড়পাড়ের কৃষকরা মুক্তি পেয়েছেন। শুধু তা-ই নয়,
করাদাইর খাল পুনঃখননে হাওড়পাড়ের মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য সড়ক ও পানিপথের যোগাযোগ
কৃষক কামাল, রবিউল ও সাত্তার জানান, হাওড়ের বোরো ধান কেটে এখন অতি সহজে নৌকায় তারা বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া খালের দু-তীরে তৈরি হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পায়ে হাঁটার পথ।
অনেক দিন পর রাজনগর উপজেলার রাজনগর সদর, ফতেহপুর ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার কৃষক দীর্ঘদিনের এ দুরবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, এরই মধ্যে খাল খননের জরিপ কাজও প্রায় নব্বই শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, হাওড়ের নুনিয়ার বিল থেকে কাশেমপুর পাম্প হাউস পর্যন্ত করাদাইর খাল ১২ কিলোমিটার পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তবে এ খালের দুই তীরে গাছ লাগিয়ে আরও আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

আরও পড়ুন:

২ thoughts on “স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন বোরো উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা”